বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

চল নিরালায়

 প্রেমে হাসিয়া ভাসিয়া উতলা হাওয়ায়

চল নিরালায় চল নিরালায়

মেঘে উড়িয়া ঘুড়িয়া

ভিজিয়া ছলায়

চল নিরালায় চল নিরালায়

 

পরানে শয়নে নয়নে নয়নে

তুমি শুধু মনে

প্রেমে হাসিয়া ভাসিয়া উতলা হাওয়ায়

চল নিরালায় চল নিরালায়

মেঘে উড়িয়া ঘুড়িয়া

ভিজিয়া ছলায়

চল নিরালায় চল নিরালায়

 

আমি আর আমি নই

তোমাতে ডুবিয়া রই দিয়েছো পাগল করিয়া

উথাল পাথাল মন দরিয়া

পরানে শয়নে নয়নে নয়নে

তুমি শুধু মনে

প্রেমে হাসিয়া ভাসিয়া উতলা হাওয়ায়

চল নিরালায় চল নিরালায়

মেঘে উড়িয়া ঘুড়িয়া

ভিজিয়া ছলায়

চল নিরালায় চল নিরালায়

তুমি আর একা নও

আমাতে মিশিয়া রও 

দেখিয়া রাখিব তোমায়

পিয়াসী মনের গালিচায়

প্রেমে হাসিয়া ভাসিয়া উতলা হাওয়ায়

চল নিরালায় চল নিরালায়

মেঘে উড়িয়া ঘুড়িয়া

ভিজিয়া ছলায়

চল নিরালায় চল নিরালায়

 

Tune and Music: Naved Parvez

Lyrics: Johny Haque

Singer: Ayon Chaklader and Atiya Anisha

Music Director : Jahid Nirob

Sound Design: Ripon Nath

 

Chol niralay

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি, 
তুমি অবসরমত বাসিয়ো।
নিশিদিন হেথায় বসে আছি,
তোমার যখন মনে পড়ে আসিয়ো ॥
আমি সারানিশি তোমা-লাগিয়া
রব বিরহশয়নে জাগিয়া--
তুমি নিমেষের তরে প্রভাতে
এসে মুখপানে চেয়ে হাসিয়ো ॥
তুমি চিরদিন মধুপবনে
চির- বিকশিত বনভবনে
যেয়ো মনোমত পথ ধরিয়া
তুমি নিজ সুখস্রোতে ভাসিয়ো।
যদি তার মাঝে পড়ি আসিয়া
তবে আমিও চলিব ভাসিয়া,
যদি দূরে পড়ি তাহে ক্ষতি কী--
মোর স্মৃতি মন হতে নাশিয়ো ॥

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1296

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1889

ami nishi din tomay

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২

দীপান্বিতা

Singer-Tarif & Shift
Lyrics-Swaraj Deb


সময় যখন মরুর ঝড়ে
এ মন হারায় কেমন করে
আমি তখন যোজন দূরে
একাকী, সঙ্গী মৌনতা
আকাশ যখন আঁধার ভীষণ
এক ফোঁটা জল চেয়েছে মন
অবহেলায়, অপমানে
পেয়েছে রিক্ত শূন্যতা
সমান্তরাল পথের বাঁকে
তোমার পথের দিশা থাকে
সে দিশা খোঁজে তোমাকে
দীপান্বিতা
গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে
তোমার ছোঁয়া মিশে থাকে
সে ছোঁয়া খোঁজে তোমাকে
দীপান্বিতা
তুমি নীল আকাশ আপন করেছো
হঠাৎ কোন কালে, কে জানে!
স্বপ্ন সীমানা ছুঁয়ে দিয়েছো
কোন সে জাদুতে, কে জানে!
আমি ছিলাম তোমার পাশে
তোমার আকাশ ভালবেসে
সে বিশালে খুঁজেছি একটুকু ঠাঁই
তাও মেলেনি তা
হঠাৎ যখন ছুটির খেলা
মেঘে মেঘে অনেক বেলা
তখন সে ক্রান্তিকালে ধুম্রজালে
খুঁজছো যে বৃথা
অশান্ত মন, বোঝাই কাকে?
হারিয়ে চাইছি তোমাকে
হাতছানি দিয়ে যে ডাকে
স্মৃতির পাতা
নদীর শেষে, আকাশ নীলে
স্বপ্নগুলো মেলে দিলে
তারা বলে সবাই মিলে
দীপান্বিতা
শোনো না, রূপসী, তুমি যে শ্রেয়সী
কি ভীষণ উদাসী, প্রেয়সী
না, না, না, না, না, না
জীবনের গলিতে, এ গানের কলিতে
চাইছি বলিতে, "ভালোবাসি"
চোখের জলেরই আড়ালে
খেলা শুধুই দেখিয়েছিলে
যন্ত্রণারই আগুন নীলে
পুড়েছি যে, বোঝনি তা
অভিমানে চুপটি করে
এসেছি তাই দূরে সরে
বোঝাতে চেয়েও পারিনি
তাই বোঝাতে লুকোনো কথা
ইট-পাথরের শহরে
গাড়ি-বাড়ির এ বহরে
খুঁজছে এ মন ভীষণ করে
দীপান্বিতা
জীবন যখন থমকে দাড়ায়
স্বপ্নগুলো দৃষ্টি ছাড়ায়
তৃষ্ণা বুকে বৃষ্টি হারায়
দীপান্বিতা
কল্পনারই আকাশ জুড়ে
নানা রঙে লোকের ভীড়ে
দু'চোখ বুজেও স্বপ্ননীড়ে
দীপান্বিতা
তুমি আমার চোখের ভাষা
তুমি আমার সুখের নেশা
তুমি আমার ভালোবাসা
দীপান্বিতা

sorry dipannita

সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২

শিক্ষকের মর্যাদা

  - কাজী কাদের নেওয়াজ

 বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
শিক্ষক মৌলভী
ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।
হঠাৎ
কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

 



তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”
শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”
বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”