বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০১৭

উমর ফারুক

- কাজী নজরুল ইসলাম


তিমির রাত্রি - 'এশা'র আযান শুনি দূর মসজিদে।
প্রিয়-হারা কার কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়ে বিঁধে!


আমির-উল-মুমেনিন,
তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন।
তকবির শুনি, শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,
বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে কি-রে গগনে মরুর শশী?
ও-আযান, ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ও কি ও তোমারি সে আহ্ববান?


আবার লুটায়ে পড়ি।
'সেদিন গিয়াছে' - শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি।
উমর! ফারুক! আখেরি নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!
আহ্বান নয় - রূপ ধরে এস - গ্রাসে অন্ধতা-রাহু!
ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!
সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ।
শুধু অঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!


ইসলাম - সে তো পরশ-মানিক তাকে কে পেয়েছে খুঁজি?
পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই মোরা বুঝি।
আজ বুঝি - কেন বলিয়াছিলেন শেষ পয়গম্বর-
'মোরপরে যদি নবী হত কেউ, হত সে এক উমর।'


অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি
খেজুরপাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক' নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা - পড়ছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে।
শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ।
সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমি ছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে।


হেরি পশ্চাতে চাহি-
তুমি চলিয়াছ রৌদ্রদগ্ধ দূর মরুপথ বাহি
জেরুজালেমের কিল্লা যথায় আছে অবরোধ করি
বীর মুসলিম সেনাদল তব বহু দিন মাস ধরি।
দুর্গের দ্বার খুলিবে তাহারা বলেছে শত্রু শেষে-
উমর যদি গো সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করে এসে!
হায় রে, আধেক ধরার মালিক আমির-উল-মুমেনিন
শুনে সে খবর একাকী উষ্ট্রে চলেছে বিরামহীন
সাহারা পারায়ে! ঝুলিতে দু খানা শুকনো 'খবুজ' রুটি
একটি মশকে একটুকু পানি খোর্মা দু তিন মুঠি।
প্রহরীবিহীন সম্রাট চলে একা পথে উটে চড়ি
চলেছে একটি মাত্র ভৃত্য উষ্ট্রের রশি ধরি!
মরুর সূর্য ঊর্ধ্ব আকাশে আগুন বৃষ্টি করে,
সে আগুন-তাতে খই সম ফোটে বালুকা মরুর পরে।
কিছুদূর যেতে উঠ হতে নামি কহিলে ভৃত্যে, 'ভাই
পেরেশান বড় হয়েছ চলিয়া! এইবার আমি যাই
উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে, তুমি উঠে বস উটে,
তপ্ত বালুতে চলি যে চরণে রক্ত উঠেছে ফুটে।'


...ভৃত্য দস্ত চুমি
কাঁদিয়া কহিল, 'উমর! কেমনে এ আদেশ কর তুমি?
উষ্ট্রের পিঠে আরাম করিয়া গোলাম রহিবে বসি
আর হেঁটে যাবে খলিফা উমর ধরি সে উটের রশি?'


খলিফা হাসিয়া বলে,
'তুমি জিতে গিয়ে বড় হতে চাও, ভাই রে, এমনি ছলে।
রোজ-কিয়ামতে আল্লাহ যে দিন কহিবে, 'উমর! ওরে
করেনি খলিফা, মুসলিম-জাঁহা তোর সুখ তরে তোরে।'
কি দিব জওয়াব, কি করিয়া মুখ দেখাব রসুলে ভাই।
আমি তোমাদের প্রতিনিধি শুধু, মোর অধিকার নাই।
আরাম সুখের, -মানুষ হইয়া নিতে মানুষের সেবা।
ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কেবা।


ভৃত্য চড়িল উটের পৃষ্ঠে উমর ধরিল রশি,
মানুষে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল শশী।
জানি না, সেদিন আকাশে পুষ্প বৃষ্টি হইল কিনা,
কি গান গাহিল মানুষে সেদিন বন্দী' বিশ্ববীণা।
জানি না, সেদিন ফেরেশতা তব করেছে কি না স্তব-
অনাগত কাল গেয়েছিল শুধু, 'জয় জয় হে মানব।'


তুমি নির্ভীক, এক খোদা ছাড়া করনি ক' কারে ভয়,
সত্যব্রত তোমায় তাইতে সবে উদ্ধত কয়।
মানুষ হইয়া মানুষের পূজা মানুষেরি অপমান,
তাই মহাবীর খালদেরে তুমি পাঠাইলে ফরমান,
সিপাহ-সালারে ইঙ্গিতে তব করিলে মামুলি সেনা,
বিশ্ব-বিজয়ী বীরেরে শাসিতে এতটুকু টলিলে না।


মানব-প্রেমিক! আজিকে তোমারে স্মরি,
মনে পড়ে তব মহত্ত্ব-কথা - সেদিন সে বিভাবরী
নগর-ভ্রমণে বাহিরিয়া তুমি দেখিতে পাইলে দূরে
মায়েরে ঘিরিয়া ক্ষুদাতুর দুটি শিশু সকরুণ সুরে


কাঁদিতেছে আর দুখিনী মাতা ছেলেরে ভুলাতে হায়,
উনানে শূন্য হাঁড়ি চড়াইয়া কাঁদিয়া অকুলে চায়।
শুনিয়া সকল - কাঁদিতে কাঁদিতে ছুটে গেলে মদিনাতে
বায়তুল-মাল হইতে লইয়া ঘৃত আটা নিজ হাতে,
বলিলে, 'এসব চাপাইয়া দাও আমার পিঠের 'পরে,
আমি লয়ে যাব বহিয়া এ-সব দুখিনী মায়ের ঘরে'।
কত লোক আসি আপনি চাহিল বহিতে তোমার বোঝা,
বলিলে, 'বন্ধু, আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা!
রোজ-কিয়ামতে কে বহিবে বল আমার পাপের ভার?
মম অপরাধে ক্ষুধায় শিশুরা কাঁদিয়াছে, আজি তার
প্রায়শ্চিত্ত করিব আপনি' - চলিলে নিশীথ রাতে
পৃষ্ঠে বহিয়া খাদ্যের বোঝা দুখিনীর আঙিনাতে!


এত যে কোমল প্রাণ,
করুণার বশে তবু গো ন্যায়ের করনি ক' অপমান!
মদ্যপানের অপরাধে প্রিয় পুত্রেরে নিজ করে
মেরেছ দোররা, মরেছে পুত্রে তোমার চোখের পরে!
ক্ষমা চাহিয়াছে পুত্র, বলেছ পাষাণে বক্ষ বাঁধি-
'অপরাধ করে তোরি মতো স্বরে কাঁদিয়াছে অপরাধী।'


আবু শাহমার গোরে
কাঁদিতে যাইয়া ফিরিয়া আসি গো তোমারে সালাম করে।


খাস দরবার ভরিয়া গিয়াছে হাজার দেশের লোকে,
'কোথায় খলিফা' কেবলি প্রশ্ন ভাসে উৎসুক চোখে,
একটি মাত্র পিরান কাচিয়া শুকায়নি তাহা বলে,
রৌদ্রে ধরিয়া বসিয়া আছে গো খলিফা আঙিনা-তলে।
হে খলিফাতুল-মুসলেমিন! হে চীরধারী সম্রাট!
অপমান তব করিব না আজ করিয়া নান্দী পাঠ,
মানুষেরে তুমি বলেছ বন্ধু, বলিয়াছ ভাই, তাই
তোমারে এমন চোখের পানিতে স্মরি গো সর্বদাই।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৭

যায় কি ছেঁড়া বুকের পাঁজর

এস আই টুটুল

যায় কি ছেঁড়া বুকের পাঁজর
স্বপ্নে কাটো মনে আঁচড়
ফিরে যাবার উপায়তো আর নেই।
তোমায় ছেড়ে কোথায় যাব?
একটু ভাবো...একটু ভাবো...
ফিরে যাবার দরজা খোলা নেই ।।
শহরে যার অনেক গুলো ঘর
মানাই তাকে দারে দারে ঘোরা
আমার শুধু একটি ঘরই চেনা
তুমি আছো সেথায় আগা গোড়া ।।
রাজ্য নিয়ে বড়াই করে লোক
ধরুক অরা মন কে নিয়ে বাজি
তুমি ছাড়া নেইতো আমার কিছু
নিঃস্ব হতে নইতো আমি রাজি ।।

মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০১৭

কোন জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত




০১) নাটোর: কাঁচাগোল্লা, বনলতা সেন।
০২) রাজশাহী: আম, রাজশাহী সিল্ক শাড়ী।
০৩) টাঙ্গাইল: চমচম, টাংগাইল শাড়ি।
০৪) দিনাজপুর: লিচু, কাটারিভোগ চাল, চিড়া, পাপড়।
০৫) বগুড়া: দই।
০৬) ঢাকা: বেনারসী শাড়ি, বাকরখানি।
০৭) কুমিল্লা: রসমালাই, খদ্দর (খাদী)।
০৮) চট্রগ্রাম: মেজবান, শুটকি।
০৯) খাগড়াছড়ি: হলুদ।
১০) বরিশাল: আমড়া।
১১) খুলনা: সুন্দরবন, সন্দেশ, নারিকেল, গলদা চিংড়ি।
১২) সিলেট:  কমলালেবু, চা, সাতকড়ার আচার।
১৩) নোয়াখালী: নারকেল নাড়, ম্যাড়া পিঠা।
১৪) রংপুর: তামাক, ইক্ষু।
১৫) গাইবান্ধা: রসমঞ্জরী।
১৬) চাঁপাইনবাবগঞ্জ: আম, শিবগঞ্জের চমচম, কলাইয়ের রুটি।
১৭) পাবনা: ঘি, লুঙ্গি, পাগলাগারদ।
১৮) সিরাজগঞ্জ: পানিতোয়া, ধানসিড়িঁর দই।
১৯) গাজীপুর: কাঁঠাল, পেয়ারা।
২০) ময়মনসিংহ: মুক্তা-গাছার মন্ডা।
২২) জামালপুর: ছানার পোলাও, ছানার পায়েস।
২৩) শেরপুর: ছানার পায়েস, ছানার চপ।
২৪) মুন্সীগঞ্জ: ভাগ্যকুলের মিষ্টি।
২৫) নেত্রকোনা: বালিশ মিষ্টি।
২৬) ফরিদপুর: খেজুরের গুড়।
২৭) রাজবাড়ী: চমচম, খেজুরের গুড়।
২৮) মাদারীপুর: খেজুর গুড়, রসগোল্লা।
২৯) সাতক্ষীরা: সন্দেশ।
৩০) বাগেরহাট: চিংড়ি, ষাটগম্বুজ মসজিদ, সুপারি।
৩১) যশোর: খই, খেজুর গুড়, জামতলার মিষ্টি।
৩২) মাগুরা: রসমালাই।
৩৩) নড়াইল: পেড়ো সন্দেশ, খেজুর গুড়, খেজুর রস।
৩৪) কুষ্টিয়া: তিলের খাজা, কুলফি আইসক্রিম।
৩৫) মেহেরপুর: মিষ্টি সাবিত্রি, রসকদম্ব।
৩৬) চুয়াডাঙ্গা: পান, তামাক, ভুট্টা।
৩৭) ঝালকাঠি: লবন, আটা।
৩৮) ভোলা: নারিকেল, মহিষের দুধের দই।
৩৯) পটুয়াখালী: কুয়াকাটা।
৪০) পিরোজপুর: পেয়ারা, নারিকেল, সুপারি, আমড়া।
৪১) নরসিংদী: সাগর কলা।
৪২) নারায়নগঞ্জ: আইভি আফা।
৪৩) নওগাঁ: চাল, সন্দেশ।
৪৪) মানিকগঞ্জ: খেজুর গুড়।
৪৫) রাঙ্গামাটি: আনারস, কাঠাল, কলা।
৪৬) কক্সবাজার: মিষ্টিপান।
৪৭) বান্দরবান: হিল জুস, তামাক।
৪৮) ফেনী: মহিশের দুধের ঘি, সেগুন কাঠ, খন্ডলেরমিষ্টি।
৪৯) লক্ষীপুর: সুপারি।
৫০) চাঁদপুর: ইলিশ।
৫১) ব্রাহ্মণবাড়িয়া: তালের বড়া, ছানামুখী, রসমালাই।
৫২) মৌলভিবাজার: ম্যানেজার স্টোরের রসগোল্লা।

রবিবার, ৪ জুন, ২০১৭

ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে

হাবিব ওয়াহিদ

ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে
আমার মনের ঘরে চাঁদের আলো চুইয়া চুইয়া পড়ে
পুষে রাখবো রাখবো রে বন্ধু তোমায় যতনে
দুধে আলতা গায়ের বরণ রূপ যে কাঁঞ্চা সোনা
আচল দিয়া ঢাইকা রাইখো চোখ যেন পড়ে না
আমি প্রথম দেখে পাগল হইলাম
মন যে আর মানে না
কাছে আইসো বন্ধু প্রেমের কারণে
ভালোবাইসো রে বন্ধু আমায় যতনে
নিশি ভোরে জোনাক নাচে মনের গহীন বনে
স্বপ্ন দেখ বন্ধু তুমি নিগুঢ় আলিঙ্গনে
তোমায় মায়া দিলাম সোহাগ দিলাম
নিলাম আপন করে
পাশে থাকব রে বন্ধু তোমার কারণে
ভালোবাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে

ও টুনির মা তোমার টুনি কথা শোনে না

ও টুনির মা তোমার টুনি কথা শোনে না
যার তার লগে ডেটিং মারে, আমায় চেনে না।।
ও টুনির মা তুমি টুনিরে বুঝাও না
দিনে-রাতে মিসকল মারে, ফোন করে না
টুনি ইসকুলে যাইবো, টুনি বারান্দায় আইবো,
টুনিরে দেইখা আমার পরান জুড়াইবো।
টুনি আমার জানেরই জান, পরানের পরান
টুনির মারে খাইতে দিমু সুপারি আর পান।।
টুনি বধূ সাজবো, টুনি লজ্জা পাইবো
টুনিরে লইয়া আমি বাসর সাজাবো।
টুনিরে লইয়া যাইমু আমি ফ্যান্টাসি কিংডম
লুকাল বাসে চইড়া যামু, খরচ হবে কম।।
টুনি আইস্ক্রিম খাইবো, টুনি ঝালমুড়ি খাইবো
টুনিরে লইয়া আমি নৌকা দৌড়াইবো।
টুনিরে লইয়া যামু আমি ঢাকা-মিরপুর
খাইতে দিমু দেশী চিঁড়া, লগে দিমু গুড়।।
টুনি আমেরিকা যাইবো, টুনি মডেলিং করবো
ফরেনার দেইখা তারে টাকা বিলাইবো।।
টুনির মুখে মিষ্টি হাসি দেখতে চমৎকার
টুনির মতো একটি মেয়ে আমার দরকার।।
টুনি পাশে থাকবো, টুনি ভালোবাসবো
সুখে-দুখে একই সাথে দিন কাটাবো।

সমাজকে দেখাতে তুমি পড়ো যে নামাজ

নকুল কুমার বিশ্বাস

সমাজকে দেখাতে তুমি পড়ো যে নামাজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ
তুমি জালেম হয়ে ধরো যদি আলেমরই সাজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ
রোজা রেখে সোজা কভু না হয় যদি মন
লোক দেখানো বোঝা টেনে লাভ কি অকারণ
যদি বন্ধ না হয় রিপুর তাড়ন
কু-স্বভাবের রেওয়াজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ
ঈমান ঠিক করিয়া করো হজ্ব আর যাকাত
নইলে বিফল হবে কালাম-কলমা হাজারো রাকাত
যদি না পৌঁছায় তোর ওই মোনাজাত
পাক দরবারের মাঝ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ
আরাম করে হারাম খেয়ে হারালি ঈমান
অমান্য করিলি আল্‌ কোরাআনের বিধান
আসলে হাশরের ময়দানের নিদান
সাজাবিরে ঠকবাজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ
নকুল বলে জীবনে তোর গুনা সীমাহীন
মক্কা গেলেও রক্ষা নাইরে কেয়ামতের দিন
তুই দোজখবাসী হবি সেদিন
পড়বে গজবেরই বাজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ

ছাত্রদলের গান

কাজী নজরুল ইসলাম

আমরা শক্তি আমরা বল
আমরা ছাত্রদল।
মোদের পায়ের তলায় মুর্সে তুফান
উর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল।
আমরা ছাত্রদল।।

মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে
যাত্রা নাঙ্গা পায়,
আমরা শক্ত মাটি রক্তে রাঙাই
বিষম চলার ঘায়!
যুগে-যুগে রক্তে মোদের
সিক্ত হ’ল পৃথ্বীতল!
আমরা ছাত্রদল।।
মোদরে কক্ষচ্যুত ধুমকেতু-প্রায়
লক্ষহারা প্রাণ,
আমরা ভাগ্যদেবীর যজ্ঞবেদীর
নিত্য বলিদান।
যখন লক্ষ্মীদেবী স্বর্গে ওঠেন,
আমরা পশি নীল অতল,
আমরা ছাত্রদল।।

আমরা ধরি মৃত্যু-রাজার
যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,
মোদের মৃত্যু লেখে মোদের
জীবন-ইতিহাস!
হাসির দেশে আমরা আনি
সর্বনাশী চোখের জল।
আমরা ছাত্রদল।।

সবাই যখন বুদ্ধি যোগায়,
আমরা করি ভুল।
সাবধানীরা বাঁধ বাঁধে সব,
আমরা ভাঙি কূল।
দার”ণ-রাতে আমরা তর”ণ
রক্তে করি পথ পিছল!
আমরা ছাত্রদল।।

মোদের চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল
বক্ষে ভরা বাক্‌,
কন্ঠে মোদের কুন্ঠ বিহীন
নিত্য কালের ডাক।
আমরা তাজা খুনে লাল ক’রেছি
সরস্বতীর শ্বেত কমল।
আমরা ছাত্রদল।।

ঐ দারুণ উপপ্লাবের দিনে
আমরা দানি শির,
মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে
বিংশ শতাব্দীর!
মোরা গৌরবেরি কান্না দিয়ে
ভ’রেছি মা’র শ্যাম আঁচল।
আমরা ছাত্রদল।।

আমরা রচি ভালোবাসার
আশার ভবিষ্যৎ
মোদের স্বর্গ-পথের আভাস দেখায়
আকাশ-ছায়াপথ!
মোদের চোখে বিশ্ববাসীর
স্বপ্ন দেখা হোক সফল।
আমরা ছাত্রদল।।