বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৭

কালের পুঁথি


শিল্পীঃ দিলরুবা খান

ওরে দিন চলে যায় ডিসকো মেলায়,
হারাইয়াছে ধুতি।
কালের লিখন পড়ছে দেখ গেরাম বাংলার পুঁথি।
ওরে দিন ফিরে আয়…
ওরে দিন ফিরে আয়, হারিয়ে যাই,
পুঁথি পড়ার দিনে
ছেড়ে হিন্দি ছবি সিরিয়াল সস্তা বিনোদনে।
শোন বাংলার পুঁথি…
শোন বাংলার পুঁথি মনে গাথি,
সুরে সুরে গাও,
মন যমুনায় ভাসাইয়া দাও প্রেমের ঘাটের নাও।
শোন দেশের কথা…
শোন দেশের কথা দশের ব্যাথা,
বাংলার গানে গানে,
জীবন নামের তরী ভাসুক মধুর কলতানে।
চল মূলে ফিরি…
চলো মূলে ফিরি নয় আর দেরি,
সবার সুখে দুখে,
মনে যা মুখেও তাই বলি অন্তর মুখে।
হই মানুষ আবার…
হই মানুষ আবার ফুলের খামার,
ফলের করি চাষ।
মিলেমিশে করি সবাই বাংলায় বসবাস।
গাই জীবনের গান…
গাই জীবনের গান কৃষকের ধান,
গোয়াল ভরা গরু,
আঁচল ভরা ভাঁজা খই হাতে চিড়ার নাড়ু।
ও সেই বিকেল বেলা…
ও সেই বিকেল বেলা হা ডু ডু খেলা,
সন্ধ্যা বেলার হাটে,
কবি গানের আসর দেখ ভরা নদীর ঘাটে।
বাজে দু’তারাটা…
বাজে দু’তারা টা পানের বাটা,
দাদী নানীর হাতে,
ঢোলের তালে ময়ূর নাচে সারা গাও একসাথে।
আজকে পুঁথির আসর…
আজকে পুঁথির আসর ফুলের বাসর,
আনন্দ সব ঘরে,
সময় নায়ে চড়ে আবার অতীতে যাই ফিরে।
আমরা অতীতে যাই ফিরে…

আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি

রবীন্দ্র সংগীত
 
আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি
তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী !
ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে !
তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।।
ডান হাতে তোর খড়্গ জ্বলে, বাঁ হাত করে শঙ্কাহরণ,
দুই নয়নে স্নেহের হাসি, ললাটনেত্র আগুনবরণ।
ওগো মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে!
তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।।
তোমার মুক্তকেশের পুঞ্জ মেঘে লুকায় অশনি
তোমার আঁচল ঝলে আকাশতলে রৌদ্রবসনী!
ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে!
তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।।
যখন অনাদরে চাই নি মুখে ভেবেছিলেম দুঃখিনী মা
আছে ভাঙা ঘরে একলা পড়ে, দুখের বুঝি নাইকো সীমা।
কোথা সে তোর দরিদ্র বেশ, কোথা সে তোর মলিন হাসি–
আকাশে আজ ছড়িয়ে গেল ওই চরণের দীপ্তিরাশি !
ওগো মা, তোমার কী মুরতি আজি দেখি রে!
তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে ।।
আজি দুখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী–
তোমার অভয় বাজে হৃদয়মাঝে হৃদয়হরণী!
ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে !
তোমার দুয়ার আজি খুলে সোনার মন্দিরে।।

ওমা তোর ভুবনে জ্বলে এত আলো

কাজী নজরুল ইসলাম

ওমা তোর ভুবনে জ্বলে এত আলো
আমি কেন অন্ধ মাগো দেখি শুধু কালো॥
মা সর্বলোকে শক্তি ফিরিস নাচি
ওমা আমি কেন পঙ্গু হয়ে আছি
ওমা ছেলে কেন মন্দ হল জননী যার ভালো॥
তুই নিত্য মহা প্রসাদ বিলাস কৃপার দুয়ার খুলি
চির শুন্য রইল কেন আমার ভিক্ষা ঝুলি।
বিন্দু বারি পেলাম না মা সিন্ধুজলে রয়ে
মা ও তোর চোখের কাছে পড়ে আছি চোখের বালি হয়ে
মোর জীবন্মৃত এই দেহে মা চিতার আগুন জ্বালো॥

মাগো মা ওগো মা আমারে বানাইলি তুই

শিল্পীঃ মোঃ খুরশিদ আলম
ছায়াছবি: সমাধি
বছরঃ ১৯৭৮


মাগো মা ওগো মা
আমারে বানাইলি তুই দিওয়ানা।।
আমি দুনিয়া ছাড়ি যেতে পারি
তোকে আমি ছাড়বো না
ওমা তোকে আমি ছাড়বো না
মাগো মা ওগো মা
আমারে বানাইলি তুই দিওয়ানা।
জন্ম নিলাম তোবই কোলে
স্নেহ মায়ায় রাখলি আমায় বুকে তুলে
মা…………গো………… মা
জন্ম নিলাম তোবই কোলে
স্নেহ মায়ায় রাখলি আমায় বুকে তুলে
তোকে কাছে পেলে যাই যে ভুলে
মনের যত যন্ত্রনা
আমার মনের যত যন্ত্রনা
মাগো মা ওগো মা
আমারে বানাইলি তুই দিওয়ানা
পারবি না তুই ফাঁকি দিতে
যেখানে যাস হবে আমায় সংগে নিতে
মা…………গো………… মা
পারবি না তুই ফাঁকি দিতে
যেখানে যাস হবে আমায় সংগে নিতে
আমি তোর পাশে ঠাই যদি পাই
মরনেরে ভয় করবো না।
আমি মরনে ভয় করবো না
মাগো মা ওগো মা
আমারে বানাইলি তুই দিওয়ানা।।
আমি দুনিয়া ছাড়ি যেতে পারি
তোকে আমি ছাড়বো না
ওমা তোকে আমি ছাড়বো না
মাগো মা ওগো মা
আমারে বানাইলি তুই দিওয়ানা।

যাবো এবার যাবো


শিল্পীঃ সায়ান
অ্যালবামঃ আবার তাকিয়ে দ্যাখ
সুরকারঃ সায়ান
গীতিকারঃ সায়ান

যাবো এবার যাবো আমি ঘরে ফিরে যাবো
আমি মায়ের কোলে গিয়ে এবার ক্ষমা চাবো
ভুল করেছে মা তোমার ভীষণ বোকা ছেলে
তোমার দেয়া সুখ খুঁজেছে আর কারো আঁচলে
আমি মায়ের কাছে ক’বো… আমি তারই সাথে র’বো
যা খুশী দাও কঠিন সাজা মাথা পেতে ল’বো
শুনছো তুমি মা’গো… আমি নষ্ট তোমার ছেলে
আচ্ছা করে বকে আবার নাও না কোলে তুলে
ভুল করেছি মা… আমায় দেবে কি ক্ষমা ?
তোমার ধুলায় আমার জীবন লুটিয়ে দেবো মা
আমি মায়ের কাছে যাবো…
তাকে জড়িয়ে ধরে র’বো
তার শেখানো ছোট্টবেলার গান তাকে শোনাবো
উঁচু উঁচু স্বপ্ন মরীচিকার পিছে ঘুরে
চলে এলাম তোমায় ছেড়ে দূরে অনেক দূরে
ঝল্‌মলে সেই ভুল খেয়েছে জীবন কুরে কুরে
মা’গো আমি বলছি তোমায় জবাবদিহির সুরে
ঝক্‌ঝকে আর তক্‌তকে এই জাঁকজমকের দেশে
থাক্‌ তোরা থাক্‌ স্বপ্নগুলো তুমুল ভালোবেসে
স্বপ্ন তোদের সত্যি হবে হঠাৎ রাতারাতি
জ্বলবে তোদের জীবন জুড়ে হাজার টাকার বাতি
আমার মায়ের উঠোন জুড়ে চাঁদের আলো খেলা করে
সেই জোছনায় ঝিঁঝিঁর ডাকে জোনাকিরা আসর করে
আমি সেই আসরে যাবো সারা রাত্রি জেগে র’বো
ভোরের বেলার পাখী হয়ে সূর্যকে শোনাবো
আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নগুলো এই আকাশেই থাক
বুকের ভিতর শুনছি আমার সেই আকাশের ডাক
ডাকছে আমায় রবীন্দ্রনাথ সেই আকাশটা জুড়ে
থাকলে কারো বুকের পাটা রাখ্‌না আমায় ধরে
চাই না আমার জীবন সোনায় মোড়া আগাগোড়া
ঝল্‌সে যাওয়া সুখের চাদর জড়িয়ে ঘুমোস্‌ তোরা
বলবো না তো কোনদিনও আসিস্‌ আমার ঘরে
আমার মায়ের উঠোন শেষে নোংরা হবে পরে
ধুলো মেখে সারা গায়ে খেলা করে মেঘ পথের ধারে
সূর্য উঠে বক্‌লে পরে দামাল মেঘের দল ফেরে ঘরে
আমি ছোট্ট প্রজাপতি হয়ে ফুলের প’রে র’বো
যাবার বেলা দুষ্টু মেঘের কানে কানে ক’বো

চল বদলে যাই


শিল্পীঃ আইয়ূব বাচ্চু
অ্যালবামঃ ফেরারী মন

সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে
সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম
কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি
কিভাবে এত বদলে গেছি এই আমি
ও বুকের সব কষ্ট দু’হাতে সরিয়ে
চল বদলে যাই
তুমি কেন বোঝ না তোমাকে ছাড়া আমি অসহায়
আমার সবটুকু ভালবাসা তোমায় ঘিরে
আমার অপরাধ ছিল যতটুকু তোমার কাছে
তুমি ক্ষমা করে দিও আমায়
কত রাত আমি কেঁদেছি
বুকের গভীরে কষ্ট নিয়ে
শূন্যতায় ডুবে গেছি আমি
আমাকে তুমি ফিরিয়ে নাও
তুমি কেন বোঝ না…
যতবার ভেবেছি ভুলে যাব
তারও বেশি মনে যায়
ফেলে আসে সেই সব দিনগুলো
ভুলে যেতে আমি পারি না
তুমি কেন বোঝ না…।।

এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি


শিল্পীঃ মোঃ আব্দুল জব্বার
গীতিকারঃ আহমদ জামান চৌধুরী
ছায়াছবি : মাস্তান

 এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি
কেন একা বয়ে বেড়াও
আমায় যদি তুমি বন্ধু মান
কিছু জ্বালা আমায় দাও।।
ছিলাম কোথায় আমি
বলো তুমি কোথায় ছিলে।
এক পলকের দেখায়
দূর থেকে কাছে এলে
মনের টানে যদি আপন হলে
মন কেন লুকোতে চাও
আমায় যদি তুমি বন্ধু মান
কিছু জ্বালা আমায় দাও।।
কথা দিলাম বন্ধু
সাথী হয়ে রইবো পাশে।
তোমার তরে যদি
মরতে হয় মরব হেসে
বন্ধুর বাধনে আজ তুমি
আমায় বেধে নাও
আমায় যদি তুমি বন্ধু মান
কিছু জ্বালা আমায় দাও।।